দাবি ছিল বিচার, মিলল পুলিশের বুলেট সদৃশ স্প্লিন্টার আর বেধড়ক লাঠিচার্জ! গতকাল বিকেলে শাহবাগের মোড় থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত এলাকা পুলিশের নজিরবিহীন বলপ্রয়োগে এক বিভীষিকাময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা যমুনার অভিমুখে এগোতে চাইলে পুলিশ হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর।
বিনা উস্কানিতে আক্রমণ: কোনো আলোচনা বা সতর্কবার্তা ছাড়াই মিছিলের ওপর আছড়ে পড়ে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর জলকামান। শান্ত রাজপথ মুহূর্তেই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে।
নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি নারী আন্দোলনকারীরাও। প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রক্তাক্ত নেতৃত্ব: ইনকিলাব মঞ্চের নীতিনির্ধারক আবদুল্লাহ আল জাবেরের দেহ ঝাঝরা হয়েছে সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে। ফাতেমা তাসনিম জুমা ও সালাউদ্দিন আম্মারসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে খুনের বিচার চাওয়া কি অপরাধ? কেন খুনিদের বিচার নিশ্চিত না করে উল্টো বিচারপ্রার্থীদের শরীরেই পুলিশের লাঠি ভাঙা হচ্ছে? পুলিশের এই আক্রমণকে ‘ফ্যাসিবাদী প্রেতাত্মার পুনরুত্থান’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।