সবজির বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও হঠাৎ চড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দামে ভোক্তারা পড়েছেন নতুন বিপাকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে এখন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, জোয়ারসাহারা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন আগাম সবজির প্রাচুর্যে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিম, বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, পটোল, লাউ, বরবটি ও কাঁচা মরিচসহ নানা সবজির দাম ৪০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও কিছুটা নিম্নমুখী। ফলে ক্রেতারা দীর্ঘদিন পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন।
তবে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি সেই স্বস্তিতে ‘বাগড়া’ দিয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, এখন তা লাফিয়ে উঠেছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তাঁরা মনে করছেন, পুরনো ‘সিন্ডিকেট’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন ভলান্টারি কনজ্যুমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়্যারনেস সোসাইটি (ভোক্তা)–এর নির্বাহী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সজল বলেন, “হঠাৎ পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। সিন্ডিকেট মুনাফার উদ্দেশ্যে বাজারে কারসাজি করছে। সরকারকে দ্রুত তদারকি জোরদার করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
অন্যদিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আড়তদার মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে, তাই আড়তে দাম বেড়েছে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।” তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
পাবনা, যেখান থেকে দেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ সরবরাহ হয়, সেখানেও চড়া দাম লক্ষ করা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৬০–৭০ টাকা থাকলেও এখন তা ১০৫–১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজবাড়ীতেও একই চিত্র—প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৭০০ থেকে চার হাজার ১০০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, দ্রুত আমদানি শুরু হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি নয়—বাজার মনিটরিং ও সিন্ডিকেটবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।