নারীদের জরায়ু সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যে ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ একটি সাধারণ নাম। ওজন বেশি বা স্থূল নারীদের সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু ওজন বেশি হলেই সিস্ট হবে—এমন কথা নির্ভরযোগ্য নয়। সিস্ট তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক জৈবিক ও হরমোনজনিত কারণ। তাই ঝুঁকির বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা অপরিহার্য।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ওভারিয়ান সিস্ট বলতে ডিম্বাশয়ের ভিতরে থলির মতো একধরনের মাংসল পিণ্ডকে বোঝানো হয়, যার মধ্যে রক্ত বা তরল পদার্থ থাকতে পারে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, সিস্ট মানেই ক্যানসার নয়। এটি টিউমারের মতো বৃদ্ধি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনাইন (ক্যানসারহীন)। তবে সিস্টের দেওয়াল পুরু হয়ে গেলে বা কোষের অনিয়মিত বিভাজন শুরু হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই মেয়েদের সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ সময়ের সিস্ট সাধারণত অল্প সময়ে নিজে থেকেই সেরে যায়।
তবে রজোনিবৃত্তির পরে (মেনোপজের পর) সিস্ট হলে তা বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। এ সময়ে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়—যার ফলে সিস্ট জটিল আকার নিতে পারে এবং অনিয়মিত রক্তপাতের ঝুঁকি দেখা দেয়।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে এমন নারীরা
এন্ডোমেট্রিওসিস রোগীরা
যারা দীর্ঘদিন হরমোন থেরাপি নিচ্ছেন
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত নারীরা
যারা কেমোথেরাপি বা রেডিয়োথেরাপি নিয়েছেন
স্তন ক্যানসারের ওষুধ ব্যবহারকারীরা
ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়া বা বেরোতে সমস্যা হতে পারে—ফলে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দেয়।
তবে অধিকাংশ সিস্টই বিনাইন এবং ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
ক্যানসারের সন্দেহ থাকলে CA-125 টেস্ট, আলট্রাসাউন্ড, এবং প্রয়োজনে সার্জারি করা হয়।
সব সিস্টের অপারেশন প্রয়োজন হয় না—অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট।
১৪ বছর বয়স থেকে নিয়মিত গাইনি চেকআপ করানো উচিত
মাসিক অনিয়ম, তলপেটে ব্যথা, মুখে ব্রণ বা ওজন বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
রজোনিবৃত্তির পর অনিয়মিত রক্তপাত হলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো শনাক্ত হলে ওভারিয়ান সিস্ট বড় কোনো ভয়ঙ্কর সমস্যা নয়। সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাই নারীস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রধান ভূমিকা রাখে।