দেশে নেই অর্থ উপদেষ্টা-সচিব, শিক্ষকদের দাবিতে সিদ্ধান্তহীনতা

আতাউর রহমান, দেশ এডিশন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

আতাউর রহমান,  দেশ এডিশন ডেস্ক :

দেশে নেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক দুই শীর্ষ ব্যক্তি—অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার। দুজনই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। উপদেষ্টার নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। সভাটি ১৩ অক্টোবর শুরু হয়ে চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে চলমান এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের আন্দোলন ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষকদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে উপদেষ্টা ও সচিব দুজনই দেশের বাইরে থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন তাকিয়ে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি উপদেষ্টা অর্থ বিভাগে পাঠানো এক আধা-সরকারি চিঠিতে তিনটি দাবির প্রস্তাব দিয়েছেন—উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা, চিকিৎসা ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকায় বাড়ানো এবং বাড়িভাড়া ভাতা পুনর্নির্ধারণ। এ প্রস্তাব সংবলিত চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলীর স্বাক্ষরে গত ৫ অক্টোবর অর্থ বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ হাজার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক–কর্মচারী উৎসব ভাতা বাবদ মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা এবং বাড়িভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা করে পান। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ভাতাগুলো অত্যন্ত অপ্রতুল ও অযৌক্তিক বলে বিবেচিত।

এদিকে সিদ্ধান্তহীনতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক–কর্মচারীরা মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা হাইকোর্ট মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের মিছিল আটকে দেয়। সেখানেই সড়কে বসে অবস্থান নেন শিক্ষকরা এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। অবস্থান কর্মসূচিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, “আজ আমরা এখানে অবস্থান করছি। আগামীকাল সকাল ১১টার মধ্যে দাবি না মানলে আমরা শাহবাগে যাব। তারপরও সমাধান না এলে যমুনার পথে যাত্রা করব। প্রয়োজনে আমরণ অনশনেও বসবো।”

দেশের সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষক ও দেড় লাখ কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে। তাদের দাবি—সরকারি চাকরিজীবীদের মতো মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া এবং ন্যূনতম ১,০০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা। তবে গত ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে অর্থ মন্ত্রণালয় মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা শিক্ষক সমাজের কাছে অযৌক্তিক ও তামাশাপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। শিক্ষক নেতারা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে ১,০০০ টাকার বাড়িভাড়া বা ৫০০ টাকার চিকিৎসা ভাতা দিয়ে কোনো শিক্ষকের মাস কাটানো অসম্ভব। এটি শিক্ষকদের মানসম্মান ও ন্যায্য প্রাপ্যের প্রতি অবহেলা।

অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব দেশে ফিরলে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয় নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত রাজপথে কর্মসূচি চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক–কর্মচারীরা।

error: Content is protected !!