পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে ভারতের ক্ষতি ১১ হাজার কোটি রুপি

স্টাফ রিপোর্টার │ দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা। দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপ নেওয়ায় সীমান্তে আটকা পড়া হাজার হাজার টন পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মহদীপুর–সোনামসজিদ সীমান্তে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে।

রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ হঠাৎ আমদানির অনুমতি বন্ধ করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মহদীপুর ও হিলি সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করা হয়েছিল, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি রুপি। রপ্তানি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পচা পেঁয়াজ আলাদা করতে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক ব্যবহার করছেন।

সাধারণত মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কেজিপ্রতি ২২ রুপিতে কেনা পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে। ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নোটিশে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানির অনুমতি সীমিত করা হয়।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর ডেল এইচ খান মন্তব্য করেছেন, “ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটি দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে সহায়ক।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট ও করিডোর সুবিধা ব্যবহার করতে দেয়ার সময় ভারতের কিছু নিয়মের শর্ত কার্যকর ছিল। তবে বর্তমানে ভারতের পক্ষ থেকে ভুটানে সামান্য পণ্য পাঠাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আইনগত নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের খাদ্য ও বাণিজ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য নীতিগত সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

error: Content is protected !!