বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনের ভাষা, উপস্থাপন কৌশল এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মূল্যায়ন নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক প্রভাব—এই দৃষ্টিকোণ থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যাও উঠে আসছে।
মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে প্রতিবেদনে নেতিবাচক ভাষ্য এবং রাজনৈতিক উত্থানকে নিরাপত্তা-ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অবস্থানকে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে—যা নিয়ে বাংলাদেশে মতভেদ রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলো বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে নির্বাচন ও প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিরপেক্ষতা, অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।
কিছু বিশ্লেষকের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতিতে একটি পক্ষের প্রভাব বা সমর্থনের বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে, অথবা সেটিকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়কে কেউ কেউ “ফ্রেমিং ডিফারেন্স” হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের আরেকটি মত হলো—কিছু অপরাধ বা সহিংস ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে প্রেক্ষাপট এবং তদন্তের অগ্রগতি যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না—এ প্রশ্ন উঠছে। তাদের মতে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, দলীয় অংশগ্রহণ, এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা—এই বিষয়গুলোর ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের বয়ানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বয়ানে টোন ও অগ্রাধিকার–এর পার্থক্য দেখা যায়।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া কাভারেজ রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা মনে করেন—পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিবেশী সম্পর্ককে সংযত ভাষায়, বাস্তবসম্মত কূটনীতির মাধ্যমে পরিচালনা করাই রাষ্ট্রীয় স্বার্থে উপযোগী।