আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,
“আমি যা বলি, আমি তা–ই করি। ভালো হোক বা মন্দ হোক—এর দায় আমার। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যাই হোক না কেন, আমি সরাইল–আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব।”
তার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয় যে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সমঝোতা অনুযায়ী, যেসব আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রার্থী দেবে, সেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। একইভাবে বিএনপির নির্ধারিত আসনগুলোতেও প্রার্থী দেবে না জমিয়ত।
তবে নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতারা বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা নিজ দলের প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে মোট চারটি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। আসনগুলো হলো—
নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা): মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা): মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট): মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ): মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের একটি খসড়া অনুমোদন করে। এতে জোটবদ্ধ নির্বাচন হলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি–জমিয়ত সমঝোতা ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।