দেশ এডিশন ডেস্ক :
ভাষাসৈনিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ আহমদ রফিক আর নেই। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এর আগে বুধবার বিকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। বারডেম হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ডা. কানিজ ফাতেমার তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। কিডনির জটিলতার পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’-এর শিকার হন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় গত রবিবার তাকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে অবস্থানকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রাবন্ধিক ইতিহাসবিদ আহমদ রফিক জীবদ্দশায় শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। দুই বাংলায় রবীন্দ্রচর্চায় তার অবদান অনন্য; কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে তাকে দেওয়া হয়েছিল ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি।
২০১৯ সাল থেকে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে শুরু করে। অস্ত্রোপচার করেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। ২০২৩ সাল থেকে তিনি প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। এর আগেই, ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভাঙার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যায়।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানকে স্মরণ করে দেশের বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিমহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁরা আহমদ রফিকের স্মৃতিকে চিরকাল বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস হিসেবে ধরে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।