মনোবলে চিড়, দায় হাসিনার তৃণমূল নেতাকর্মীদের হতাশা চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

হাসিনার মামলার রায় এবং ভল্টে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আওয়ামী লীগে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের বহু নেতাকর্মী বলছেন, এমন সময়ে দলীয় প্রধানকে ঘিরে নেতিবাচক খবর তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে এবং রাজনৈতিকভাবে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দলের বিভিন্ন সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলার তীব্র চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্পদ ও স্বর্ণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তারা ‘হতবাক’ হয়েছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ যদি বৈধ আয় বা কর নথিতে উল্লেখ থাকত, তা হলে রাজনৈতিকভাবে এত বড় বিপর্যয় নেমে আসত না। তারা মনে করছেন, বিষয়টি দলের নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে এবং ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলেও এ ধরনের ঘটনা ‘ইতিহাসে থেকে যাবে’।

দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রক্ষমতায় দীর্ঘদিন থাকা অবস্থায় এত বিপুল সম্পদ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিতর্কে জড়ানোয় মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাই বিস্মিত বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় থাকতে শেখ হাসিনার ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ অবস্থান দলের ভেতরে জবাবদিহির অভাব তৈরি করেছিল। ফলে দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত খবর প্রকাশ পাওয়াকে তারা অস্বাভাবিক মনে করছেন না। তাদের মতে, দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে বিতর্ক নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করে এবং সংগঠনের ভেতর নেতিবাচক বার্তা ছড়ায়।

বিশ্লেষকদের আরেক অংশ বলছেন, যদি অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল আচরণ দেখা যেত, তা হলে দলীয় রাজনীতিতে শুদ্ধাচারের ধারা তৈরি হতে পারত। কিন্তু একের পর এক বিতর্কের উদ্ভব সেই সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে দিচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন। পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে এখন তীব্র আলোচনা চলছে।

error: Content is protected !!