সাত কোটি টাকার ব্রিজ, চার বছরেও নেই সংযোগ সড়ক

মোঃ সাহাজান আলী গাংনী উপজেলা প্রতিনিধি | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

গাংনীতে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক না থাকায় কার্যত অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটির কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, আর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯ টাকা

সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিজ থাকলেও গাংনী অংশে সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘুরে যেতে হচ্ছে প্রায় ৯ কিলোমিটার। এতে কৃষিকাজ, চিকিৎসাসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনে যাতায়াত করা মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

বেতবাড়ীয়া গ্রামের ইয়াকুব আলী বলেন, “ব্রিজ হওয়ার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা না হওয়ায় এখন সেই খুশি নেই।”
গোবরগাড়া গ্রামের আশাদুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজ আছে, কিন্তু রাস্তা নেই—ফসল নিয়ে যেতে কষ্ট হয়, বোঝানোর মতো না।”

ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হচ্ছেন অনেকে

দৌলতপুর অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও গাংনী অংশে কাজ শুরু না হওয়ায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মধুগাড়ি গ্রামের আকরামুল ইসলাম বলেন, “এই ব্রিজ পার হতে ৫ মিনিট লাগে, কিন্তু রাস্তা না থাকায় ৯ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।”

জমি অধিগ্রহণ জটিলতা

এলজিইডি সূত্রে আরও জানা যায়, সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ আটকে আছে। ব্রিজ নির্মাণের আগে স্থানীয় দুই মুক্তিযোদ্ধা—সিরাজুল ইসলামআমিরুল ইসলাম—জমি দিতে আগ্রহী থাকলেও পরে বাজারমূল্য অনুযায়ী বেশি দাম দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে।

এলজিইডির বক্তব্য

গাংনী উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। প্রক্রিয়া শেষ হলে অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।


দায়মুক্তি/নোট (Publication Disclaimer)

এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশ এডিশন তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছে; তবে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুলের দায়ভার সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

error: Content is protected !!