মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দপ্তরে সোরগোল, তৃণমূলে বাড়ছে অস্থিরতা

স্টাফ রিপোর্টার │ দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে সারা দেশে তীব্র অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর অন্তত অর্ধশতাধিক আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের বাদ দিয়ে বয়োবৃদ্ধ, বিতর্কিত, সুবিধাভোগী ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে, যা নির্বাচনে দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।

এই পরিস্থিতিতে দুই ধাপে ঘোষিত ২৭২টি আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকেছে বিএনপি। প্রথম ধাপে গত বুধবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দলটি। সেখানে নির্বাচনি কৌশল ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনার পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা—তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। পরে একটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের মাধ্যমে মোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭১-এ। বাকি ২৯টি আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সিরাজগঞ্জ-৩, চট্টগ্রাম-১২, দিনাজপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪, কুষ্টিয়া-৪, জামালপুর-২, চট্টগ্রাম-১৩, নেত্রকোনা-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩সহ বিভিন্ন আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা লিখিত অভিযোগ ও আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগগুলোতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বয়োবৃদ্ধতা ও শারীরিক অক্ষমতার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

তৃণমূল নেতারা আশঙ্কা করছেন, এসব বিতর্কিত প্রার্থী বহাল থাকলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন এবং সম্ভাব্য বিজয়ী আসন হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “একাধিক দফা মাঠ জরিপ ও সাংগঠনিক নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই তৃণমূলের কোন্দল মেনে নেওয়া হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যেতে হবে।”

মনোনয়ন ঘিরে চলমান এই অস্থিরতা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

error: Content is protected !!