সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন—আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে মহানবী (সা.) প্রদর্শিত ন্যায়পরায়ণতার আদর্শকে ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন,
“রাজনীতিতে আমার একমাত্র অগ্রাধিকার দেশের স্বার্থ। অন্য কোনো দেশের দাসত্ব করতে আমরা রাজনীতি করি না। গত ১৫ বছর একটি দল ক্ষমতার লোভে বিদেশের গোলামি করেছে। কিন্তু আমাদের নীতি পরিষ্কার—দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।”
গত দেড় দশকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিকে ‘লুটপাটের মুখোশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এর বাস্তব প্রমাণ ঢাকা-সিলেট সড়ক। এই পথ পাড়ি দিতে এখন যে সময় লাগে, বিমানে লন্ডনে পৌঁছাতেও তার চেয়ে কম সময় লাগে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। জনসভায় উপস্থিত একজন হাজিকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন,
“দুনিয়া ও আখেরাতের সবকিছুর মালিক কে?”
জনতা একযোগে ‘আল্লাহ’ বললে তারেক রহমান বলেন,
“যে জিনিসের মালিক একমাত্র আল্লাহ, সেই জান্নাত বা পারলৌকিক পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোনো রাজনৈতিক দল কীভাবে দেয়? এটি সরাসরি কুফরি ও শিরক।”
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হলে নির্বাচনের পর জনগণের বড় ক্ষতি হতে পারে।
বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন,
“আমরা যুবসমাজকে পরনির্ভরশীল রাখতে চাই না। দেশের ভেতরে এবং বাইরে কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করে তাদের স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিগত আমলের নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“আমরা দেখেছি কীভাবে নিশিরাতে ভোট হয়েছে, কীভাবে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।