আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: নির্বাসনের অনিশ্চয়তায় ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

কলকাতার নিউ টাউনের এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট—চার দেয়ালের ভেতর আজ আর রাজনীতির মাঠ কাঁপানো দাপট নেই। নেই ‘খেলা হবে’ বলে হুংকার তোলা সেই চেনা মেজাজ। আছে কেবল গুমোট দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চয়তার চোরাবালি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-এর দাপুটে নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখন স্বদেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল—কিন্তু ফেরার পথ যেন কুয়াশায় ঢাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভারতের আশ্রয়ে থাকলেও কাদেরের কণ্ঠে এখন তীব্র ক্ষোভ। তার মতে, ভারত বা আমেরিকার ওপর ভরসা করে যে তরী পার হওয়ার আশা ছিল, সেই মহাশক্তিগুলোর কাছে এখন আওয়ামী লীগ নেহাতই গুরুত্বহীন। ভূরাজনীতির বিশাল ক্যানভাসে ইউরোপ-আমেরিকার অগ্রাধিকারে দলটির অবস্থান তলানিতে নেমেছে।

কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা-র একক শক্তিতেই দলটি চলত। বাকি নেতারা দায়িত্বে ঘাটতি রেখেছেন বলেই আজ এই পরিণতি। গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সশরীরে উপস্থিতি কিংবা অন্তত একটি ভিডিও বার্তার আশায় কর্মীরা বুক বেঁধেছিলেন—ভেবেছিলেন পাশা উল্টে যাবে। কিন্তু বাস্তবে মেলে কেবল একটি বিষণ্ণ অডিও বার্তা, যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে ঘিরে ব্যক্তিগত ক্ষোভই প্রাধান্য পায়; কোনো দিকনির্দেশনা মেলেনি।

সূত্র জানায়, কাদের আর কলকাতার নিউ টাউনে থাকতে আগ্রহী নন। বাংলাদেশে ফিরতে চান, কিন্তু কোনো বাস্তব পথ দেখছেন না। তার উপলব্ধি—ভারত বা আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশগুলো আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষমতায় ফেরানোকে এখন ‘নগণ্য’ বিষয় হিসেবেই দেখে; বিশ্বরাজনীতি ব্যস্ত বড় বড় ইস্যুতে।

এই অনিশ্চয়তার ভিড়ে নির্বাসিত নেতাদের একটি অংশ নতুন হিসাব কষছে—ভারত ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়া-র পথে পাড়ি জমানোর। অনেকেই বুঝে গেছেন, রাজনীতির হাটে তাদের কদর এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কেউ আর তাদের নিয়ে ভাবছে না—ইতিহাসও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের সংকট, আন্তর্জাতিক সমর্থনের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ দায়িত্বহীনতার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের সামনে ভবিষ্যৎ পথ এখন গভীর অনিশ্চয়তায় মোড়া।

error: Content is protected !!