ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন নাহারকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রী সাবিকুন নাহারের একটি ফেসবুক পোস্টের পর এ নিয়ে নানা আলোচনার জন্ম হয় অনলাইনে।
তবে সোমবার (৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টের মাধ্যমে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান।
পোস্টের শুরুতে তিনি লিখেছেন,
“বিসমিল্লাহিল মালিকিল কুদ্দুস! আমি চুপ থাকতে পছন্দ করি, মাজলুম হলে আরও বেশি করি। কারণ আমার উস্তাদ আমাকে শিখিয়েছেন—মানুষের কাছে নয়, রোজ হাশরে মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের অবস্থানই মুখ্য।”
স্ত্রীর পোস্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমার প্রিয়তমা স্ত্রী সাবিকুন্নাহার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। দুটোই তার ভালোবাসার নিদর্শন। হ্যাঁ, সে ভুল করেছে, ভুল বুঝেছে। কিন্তু সে অনুতপ্ত হয়েছে, ক্ষমা চেয়েছে—এটাই যথেষ্ট। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”
একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গে আবু ত্বহা লিখেছেন,
“আমি স্রেফ বিয়েতে বিশ্বাসী। দ্বীনে ফিরে দুজন নারীর দায়িত্ব নিয়েছি—কেউই কুমারী নন। নারী ইস্যু এলে সুন্নাত শেখানো দ্বীনদার পুরুষদের এমন হালাল সাহস কজন দেখায়? যদি হারাম কিছু চাইতাম, অপশনের অভাব ছিল না। কিন্তু আমি করলে বিয়ে করতাম, জানিয়ে করতাম।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি আমার প্রত্যেক আহল পরিবার, সন্তান ও সম্পর্ককে মুহাব্বাত করি। চার আহলিয়া বল আর বাহাত্তর হুরই বল—তুমি (স্ত্রী) না থাকলে আমার সব কিছুর মাঝেও ক্বলব থাকলেও আদতে কোনো রুহ থাকবে না।”
নিজের জীবনের অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“১৫ বছর আগে আমি জাহেলিয়াতের জীবনে ছিলাম—ক্রিকেটার, সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড ভোকাল ছিলাম। কিন্তু তাবলিগের মাধ্যমে দ্বীনে ফিরে এসেছি, এখন আল্লাহর পথে আছি।”
শেষে তিনি স্ত্রীসহ নিজের জন্য দোয়া চেয়ে বলেন,
“আজ অবদি আমার সাথে যারা অন্যায় করেছে, আমি সবার জন্য ক্ষমা ও ইসলাহের দোয়া করি। আল্লাহ যেন এই ওয়াসিলায় আমাকে শাহাদাতের মওত দান করেন।”
আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময়। কেউ তার ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতার প্রশংসা করছেন, কেউবা পারিবারিক বিষয় প্রকাশ্যে আনার সমালোচনা করছেন।
সূত্র: আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ