খাল দখল করে বিএনপি নেতার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গঞ্জে আলী খালকে ফতুল্লা ও শহরের ‘প্রাণ’ বলেও অভিহিত করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি ফতুল্লার চানমারি থেকে শুরু হয়ে তল্লা-হাজিগঞ্জ এলাকা অতিক্রম করে শীতলক্ষ্যা নদীতে সংযুক্ত হয়েছে।

সম্প্রতি খালপাড় এলাকায় “প্রস্তাবিত ট্যাক্সি স্ট্যান্ড” উল্লেখ করে কয়েকটি সাইনবোর্ড/ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—খালের তীরবর্তী এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম খাল ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লার চানমারি রেললাইন সংলগ্ন স্থানে গঞ্জে আলী খালের শুরু। সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড মালিক সমিতি ও শ্রমিক কমিটি নাম ব্যবহার করে একাধিক ব্যানার টানানো হয়েছে। একটি ব্যানারে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে— “প্রস্তাবিত ট্যাক্সি স্ট্যান্ড”

আরেকটি ব্যানারে কমিটির উপদেষ্টাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। ওই তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইউসুফ খান এর নাম দেখা যায়। এছাড়া তালিকায় জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মোট ১৩ জন নেতার নাম উল্লেখ রয়েছে—যার মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতে মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রানাসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্থানীয়দের একাংশের মতে, খালকে ঘিরে যেকোনো স্থাপনা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলে তা খাল রক্ষা, নাব্যতা বজায় রাখা ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা কাজে প্রতিবন্ধক হতে পারে। তারা চান—গঞ্জে আলী খাল যে উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি অক্ষুণ্ন থাকুক এবং খালপাড়ে যেকোনো উদ্যোগ আইন ও নীতিমালা মেনে নেওয়া হোক।

error: Content is protected !!