গণভোটকে শুধু বর্তমান সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ও জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন, তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব।
তিনি এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর পৌরসভা কর্তৃক ৩নং ওয়ার্ড আদর্শপাড়া এবং ১নং ওয়ার্ড খানাখুনিয়ারী এলাকায় আয়োজিত পৃথক উঠান বৈঠকে।
মাসুদ সাঈদী কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ধরনের কার্ড (যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড) দেওয়ার কথা বলছে, তবে এর অর্থায়ন কীভাবে হবে—সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব কার্যক্রম পরিচালনায় ভবিষ্যতে ভ্যাট বা কর বাড়তে পারে, ফলে জনগণের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও বৈষম্যের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে এবং জুলাই সনদের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এতে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে। অন্যদিকে ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে পুরনো ব্যবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে পরিবর্তনের গতি ব্যাহত হতে পারে।
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, তারা একটি নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামো, নতুন বন্দোবস্ত এবং কল্যাণময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হলে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।
উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, পিরোজপুর পৌরসভার আমীর ইসহাক আলি খান, পৌর সেক্রেটারি মোহাম্মদ আল আমিন, জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক ছাত্রনেতা জেলা কমিটির সদস্য মাওলানা রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।