গুম প্রতিরোধে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ জারি — মৃত্যুদণ্ড ও কোটি টাকা জরিমানা সহ কঠোর শাস্তির বিধান

স্টাফ রিপোর্টার │ দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

সরকার গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেট হওয়ার মধ্য দিয়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে — যদি কোনো ব্যক্তি গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করে বা গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবহার করে, তাহলে সাত বছরের কারাদণ্ড হবে। যদি গুমের মাধ্যমে কারো মৃত্যু হয় কিংবা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না যায়, তাহলে দণ্ডের মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

নিয়ম ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে জামিন বা আপস-যোগ্য কোনো সুযোগ থাকবে না। অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা হলে — তাদের জন্যও একই কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। অভিযোগ গঠনের ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে। পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও অনুপস্থিতিতে বিচার সম্ভব।

এছাড়া, গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে তার পরিবারকে, যদি ট্রাইব্যুনাল সেটা যুক্তিসঙ্গত মনে করে। আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে — গুম বা গোপন আটককেন্দ্র ব্যবহার করে কারো মৌলিক অধিকার হরণ করলে, দায়ী ব্যক্তি–সহ তার ঊর্ধ্বতনরাও দণ্ডিত হতে পারেন।

নিয়মপ্রণয়নকারী কর্মকর্তারা বলছেন, গুম প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন আইন কার্যকর হলে,গুমের মতো মনুষ্যত্ববর্জ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে।

error: Content is protected !!