দীর্ঘ ১৮ বছরের আড়ষ্টতা কাটিয়ে বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হচ্ছে এক নতুন ধারার নির্বাচনি প্রচারণা। গত দেড় দশকের একতরফা নির্বাচনের পরিবেশ পেছনে ফেলে আজ থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সাথে অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই চার্টার’ বা গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত।
নির্বাচনি প্রচারের শুরুতেই বড় দলগুলো তাদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
বিএনপি: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এটি নির্বাচনের আমেজে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জামায়াতে ইসলামী: জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ থেকে দেশব্যাপী প্রচার শুরু করছেন। ‘আধুনিক ও ইনসাফ কায়েমের’ স্লোগান নিয়ে দলটি এবার ব্যাপকভাবে মাঠে নামছে।
অন্যান্য দল: জাতীয় পার্টিসহ ছোট-বড় ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী আজ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা এবং ভোটার উপস্থিতির প্রত্যাশা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
| বিষয় | তথ্য |
| মোট প্রার্থী | ১,৯৮১ জন (গড়ে প্রতি আসনে ৭ জন) |
| মোট ভোটার | ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৭১৮ জন |
| ভোটকেন্দ্র | ৪২,৭৮৯টি |
| ভোটগ্রহণের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| সবচেয়ে বেশি প্রার্থী | বিএনপি (২৮৮ জন) |
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রচারের সময় অবশ্যই আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। ইতোমধ্যে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৭৫ জনকে সতর্ক এবং ৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। ইসি কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাচন বিশেষজ্ঞের মতামত: নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মুনিরা খান বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। কমিশনকে কেবল শোকজ নোটিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।”
এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আইআরআই এবং এনডিআই-এর মতো সংস্থার ১৮৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ৮৩ জন বিদেশি প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাই করতে কাজ করছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনি ময়দান বিএনপি, জামায়াত ও রেকর্ডসংখ্যক তরুণ প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। ভোটাররা আশা করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে একটি সত্যিকারের মুক্ত ও নিরপেক্ষ উৎসব।