ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা, দেশে দফায় দফায় কম্পন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

নরসিংদী, ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে একের পর এক ভূমিকম্পে কাঁপছে দেশ। বিশেষ করে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর মাধবদীতে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। রাজধানীর এত কাছে এরকম শক্তিশালী কম্পন আগে কখনো অনুভূত হয়নি।

ভূমিকম্পের ফলে নরসিংদী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০০-এর বেশি মানুষ। আতঙ্কে কেউ কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন, অনেকেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের কারণে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে।

ভূমিকম্পের পরপরই নরসিংদীতে আরও কয়েকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ৩.৩ থেকে ৪.৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। এরপর বুধবার দিবাগত রাতে টেকনাফ ও সিলেটে ৪.০ এবং ৩.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩.৬ মাত্রার কম্পন ঘটে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন ও আবহাওয়াবিদ রুবায়েত কবির জানান, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো মূলত আগের কম্পনের আফটার শক। তবে এই বিষয়ে জনসাধারণের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, নরসিংদীর ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মূলত ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের সংযোগস্থল বা সাবডাকশন জোনে। এই অঞ্চলে প্লেটের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে শক্তি সঞ্চিত হয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি দেশে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নরসিংদী অঞ্চলে ১৯৫০ সালের পর থেকে ৫.৫ বা তার বেশি মাত্রার ১৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হলো ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট-চট্টগ্রাম-টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ফল্ট জোন। এই অঞ্চলগুলোকে বিশেষভাবে বিপজ্জনক মনে করা হয়।

ভূমিকম্পপ্রবণতার কারণে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নিজের ঘর নিরাপদ রাখা, জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা, পরিকল্পিত মহড়া আয়োজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও নিরাপদ করা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ। এছাড়া জনগণকে ব্যাপকভাবে সচেতন করা এবং প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, ভূমিকম্পের সময় ও স্থান পূর্বনির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা প্রাণ রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।

error: Content is protected !!