নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় চাটখিল উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
মনোনয়ন সংগ্রহের সময় একটি আবেগঘন ও প্রতীকী দৃশ্যের অবতারণা হয়। জুলাই আন্দোলনে শহীদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব তামিমের বাবা আব্দুল মান্নানের হাত দিয়েই ব্যারিস্টার ওমর ফারুক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় আব্দুল মান্নানই ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের একমাত্র মনোনয়ন সংগ্রহকারী প্রতিনিধি।
মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, “ইনসাফের কথা বলে জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছিল এ দেশের আপামর জনগণ। যখনই আমরা ইনসাফ থেকে দূরে সরে যাই, তখনই বিপ্লবী হাদিদের জন্ম হয়। হাদিরা বুলেটবিদ্ধ হলেও ইনসাফের আকাঙ্ক্ষা কখনো শেষ হয় না। হাদির জানাজাই প্রমাণ করে—ইনসাফ কায়েমের জন্য যুগ যুগ ধরে হাদিরা জন্ম নেবে। সেই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা থেকেই এনসিপি আমার ওপর আস্থা রেখেছে।”
শহীদ আহসান হাবিব তামিমের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, “আজ আমি ফারুক ভাইয়ের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। তিনি শাপলা প্রতীকের প্রার্থী এবং একজন সৎ মানুষ। আমরা চাই তিনি বিজয়ী হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবেন এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াবেন। নতুন বাংলাদেশ এগিয়ে যাক—এই প্রত্যাশাই করি।”
আহত জুলাই যোদ্ধা রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা গণমানুষের কথা বলবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে।”
মনোনয়ন সংগ্রহকালে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা ও চাটখিল উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী গোলাপ হোসেন ফরহাদ, নোয়াখালী জেলা এনসিপির সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার মো. হানিফ, চাটখিল উপজেলা এনসিপির সংগঠক রাসেদুল ইসলাম, মুফতি নাজিমুদ্দিনসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত নেতারা বলেন, শহীদ তামিমের বাবার হাত দিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ একটি শক্তিশালী প্রতীকী ও আবেগঘন বার্তা বহন করে, যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার প্রতিফলন।
নোয়াখালী-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “চাটখিল উপজেলা থেকে একটি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে, যা এনসিপি প্রার্থী সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”