ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের দুইটি আসনে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ভোটাধিকারের সুযোগ না পাওয়া সাধারণ ভোটার ও যুবসমাজের আগ্রহ এবারের নির্বাচনে লক্ষ্যযোগ্য।
বিএনপি এই আসনে মাসুদ রানা প্রধানকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ফয়সল আলিম ও আব্দুল গফুর মণ্ডল মনোনয়নবঞ্চিত হিসেবে সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের অনুসারীরা শহর ও গ্রামে গণমিছিল ও শোডাউন করেছেন। মনোনয়নবঞ্চিত ফয়সল আলিম দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে এবং ধানের শীষের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন।
জামায়াত এখানে জেলা আমির ফজলুর রহমান সাঈদকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করেছে। স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর জামায়াতের সামাজিক কার্যক্রম তাদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে। জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গোলাম কিবরিয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে। আসনে মোট ভোটার প্রায় সাড়ে চার লাখ।
বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা আব্দুল বারীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, ওবায়দুর রহমান চন্দনসহ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর অনুসারীরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও গণমিছিল পরিচালনা করছেন। তবে স্থানীয় দলীয় নেতা ওবারীর সমর্থকরা গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন এবং জেলা বিএনপি নিশ্চিত করেছে—মনোনয়ন পরিবর্তন হবে না। সাবেক সচিব আব্দুল বারী বলেন, “হাইকমান্ড যাকেই মনোনয়ন দিক, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
জামায়াত এস এম রাশেদুল আলম সবুজকে এই আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দল সুসংগঠিত গণসংযোগ চালাচ্ছে। এছাড়া এনসিপি আব্দুল ওহাব দেওয়ান কাজলকে মনোনয়ন দিয়েছে।
ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতদের আন্দোলন, জামায়াত ও এনসিপির শক্তিশালী প্রস্তুতি, এবং ইসলামী ধারার একক প্রার্থীদের প্রভাবের কারণে আসনে ভোটের রূপ কেমন হবে তা বলা যাচ্ছে না। জয়পুরহাট-২ আসনের মোট ভোটার প্রায় তিন লাখ।