বিটিআরসির নিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় ১৫৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)—এ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ১৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো বহাল রয়েছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে সংস্থাটিতে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত দেড় দশকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও নিয়োগবিধি অনুসরণ না করে দলীয় সুপারিশে এসব নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দপ্তরে বঞ্চিতদের পদোন্নতি হলেও বিটিআরসিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পদোন্নতি হয়নি। বর্তমানে সংস্থাটিতে ৫০টির বেশি শূন্য পদ থাকলেও পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির। অভিযোগকারীদের মতে, বিতর্কিত নিয়োগধারীদের উপস্থিতিই এর অন্যতম কারণ।

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ

সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পে কর্মরত ও জুনিয়র কনসালটেন্টদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে ২৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট ও ২১ জন প্রকল্প কর্মকর্তা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন—যা প্রচলিত সরকারি নিয়োগ বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও পরবর্তী সময়ে প্রকল্প আত্তীকরণে সীমাবদ্ধতার কথা লিখিতভাবে জানায়।

অডিট আপত্তি ও অনুসরণ না হওয়া সুপারিশ

২০২৩ সালে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে করা কমপ্লায়েন্স অডিটে একাধিক অনিয়মের কথা উঠে আসে। বয়সসীমা শিথিলকরণ, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ এবং বিধি উপেক্ষার অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বয়সসীমা ও যোগ্যতা লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বয়সসীমা অতিক্রমের পর নিয়োগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া পদায়ন এবং লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এ তালিকায় কারিগরি ও প্রশাসনিক—উভয় ক্যাডারের একাধিক পদ অন্তর্ভুক্ত বলে সূত্র জানায়।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সূত্রগুলো আরও দাবি করে, নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশ পরবর্তীতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে, যা চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে পদোন্নতি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করেছে।

সাম্প্রতিক উদ্যোগ

জুলাই-পরবর্তী সরকারের সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষ সহকারী এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নীতিনির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখার যে উদ্দেশ্যে কমিশনটি গঠিত হয়েছিল, বিতর্কিত নিয়োগ ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্তই এ সংকট নিরসনের পথ—এমন মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

error: Content is protected !!