রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং নরসিংদী থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে। এর গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবাঈয়্যাৎ কবীর জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে নরসিংদীর শিবপুরে। এটি ছিল মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প; রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪ দশমিক ১।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় নরসিংদীর ঘোড়াশালে ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের মাত্রায় বেড়েছে উত্তরের ও মধ্যাঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ। সোমবার রাতে মিয়ানমারের ফালামে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প চট্টগ্রামেও অনুভূত হয়।
এরও আগে ২১ নভেম্বর কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে বাংলাদেশে। ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তিস্থল হওয়া ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
পরদিন সকালে নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। সন্ধ্যায় সেকেন্ডের ব্যবধানে ঢাকার বাড্ডা ও নরসিংদীতে দুটি ভূমিকম্পে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের এই ধারাবাহিকতা মধ্যাঞ্চলের ভূ-অবকাঠামো ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক থাকতে এবং ভবনগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করে তোলার তাগিদ দিয়েছে।