শোকের ছায়া আর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা আতশবাজির আলোয় উত্তাল ঢাকা

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

রাষ্ট্রীয় শোক ও পুলিশের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আবহে ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রহর কাটবে নীরবে—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ঘোষিত তিন দিনের শোক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে রাজধানীজুড়ে শান্ত রাতের পূর্বাভাস ছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন দৃশ্য।

রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার আকাশে ভেসে ওঠে আতশবাজির আলো। শোকের আবহ ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় পটকা ও আতশবাজির ঝলকানি। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, মালিবাগ, মিরপুর ও উত্তরাসহ বহু এলাকায় মধ্যরাতে আকাশজুড়ে আলো ও শব্দে জানান দেয় নতুন বছরের আগমন।

শোকের কারণে বার ও মদের দোকান আগেভাগেই বন্ধ ছিল, বড় কোনো কনসার্ট বা উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজনও চোখে পড়েনি। প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশি টহল ও চেকপোস্টের কারণে যান চলাচল ছিল নিয়ন্ত্রিত। তবে পাড়া-মহল্লার ছাদ ও ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল বেশিরভাগ উদযাপন। একের পর এক আতশবাজির শব্দে রাতের নীরবতা ভেঙে পড়ে।

ডিএমপি আগেই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিল, শোক পালন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে পটকা, আতশবাজি ও যেকোনো ধরনের উন্মুক্ত জমায়েত নিষিদ্ধ। পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালালেও ব্যক্তিগত বাসাবাড়ির ছাদে হওয়া ছোট আয়োজন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় নগরবাসীর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। একাংশ শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বিরত ছিলেন। আবার কেউ কেউ নতুন বছরকে স্বাগত জানানোকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে—কেউ শোকের সময় এমন উদযাপনকে অনভিপ্রেত বলেছেন, আবার কেউ এটিকে স্বাভাবিক সামাজিক প্রবাহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

সব মিলিয়ে, শোকের গাম্ভীর্য আর ব্যক্তিগত আবেগের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই রাজধানী ঢাকা নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। একদিকে শোকের নীরবতা, অন্যদিকে আকাশে রঙিন আলোর ঝলক—এই বিপরীত চিত্রেই শুরু হলো ২০২৬ সালের পথচলা।

error: Content is protected !!