জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘অস্পষ্ট’ ও ‘ক্ষমতাবানদের সুবিধামতো ব্যাখ্যার সুযোগ রাখে’ বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্তুষ্ট করলেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে আমরা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু আদেশটি এমনভাবে করা হয়েছে যেন ক্ষমতাবানরা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করতে পারেন।”
আখতার হোসেন বলেন, গণভোট সংক্রান্ত কাঠামোকে ভাগ করে ‘অগ্রাধিকারহীন’ করা হয়েছে। অনেক সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ দেখানো হয়েছে এবং কিছু সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,
গণভোটে ‘অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান’ বলতে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো বোঝানো হয়েছে তা পরিষ্কার নয়।
দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আলোচনার বিষয় আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়নি।
উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশ না করার বিধান রাখা হয়েছে, তবে পরের নির্বাচন থেকে এটি বাধ্যতামূলক হবে কি না—অস্পষ্ট।
আলোচিত ১০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও আদেশে ‘রাজনৈতিক দলের অনুমোদনের সুযোগ’ রেখে অস্পষ্টতা তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির দাবি, সনদ বাস্তবায়নের সময়সীমা ১৮০ দিন ঠিক করা হলেও ব্যর্থ হলে এর ফলাফল কী হবে—তা উল্লেখ নেই। এতে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আখতার হোসেন বলেন, “এই আদেশের ফলে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সরকার দ্রুত এসব অস্পষ্টতা দূর করবে বলে আমরা আশা করি।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ নিয়ে কোনো দায়বদ্ধতা দেখায়নি। দলগুলোকে খুশি করলেও জনগণকে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ মৌলিক সংস্কারের পথে বাধা।”
তিনি অভিযোগ করেন, বাহাত্তরের ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো’ বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রক্রিয়া শুরু হলেও এই আদেশ আবার সেই পথেই ফিরিয়ে নিচ্ছে। “এক হাসিনা যাওয়ার পর আরেক হাসিনা আসার প্রস্তুতি চলছে”— বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গণভোটে চারটি হ্যাঁ ভোটের ‘প্যাকেজে’ অস্পষ্টতা রয়েছে। এসব স্পষ্ট করার পরই এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন,
“সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভোটব্যাংকের ইস্যু বানাবেন না। এমন করলে জনগণই আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. তাসনিম জারা, আব্দুল হান্নান মাসউদ, মনিরা শারমিনসহ এনসিপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
— দেশ এডিশন