পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এক ঘটনা। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—তিনি ৮টি কুকুরের ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যা করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ফেসবুকজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
মানবিকতা, প্রাণীকল্যাণ এবং আইনের দৃষ্টিতে এমন কাজ গুরুতর অপরাধ হলেও, ইসলামের দৃষ্টিতেও এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইসলাম ধর্মে পশু-পাখিরও ন্যায্য অধিকার রয়েছে এবং তাদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনকে ঈমানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিনা কারণে প্রাণী হত্যা বা নির্যাতন ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।
হাদিসে বর্ণিত রয়েছে—
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রেখেছিল, না খেতে দিয়েছে না পান করিয়েছে, এমনকি ছেড়েও দেয়নি। ফলে বিড়ালটি মারা যায় এবং সে নারী জাহান্নামে গেছে।” (বুখারি ৩৪৮২)
এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, বিনা দোষে কোনো প্রাণীকে হত্যা বা নির্যাতন করা মারাত্মক গুনাহ এবং পরকালের শাস্তির কারণ হতে পারে। ইসলাম বলে—যে ব্যক্তি প্রাণীদের প্রতি দয়া করে, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করবেন। আর যে নির্মম আচরণ করবে, আল্লাহ তার বিচার করবেন।
রোববার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর ঈশ্বরদীতে সংঘটিত এই ঘটনা শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, ধর্মীয় ও আইনি দৃষ্টিতেও একটি জঘন্য অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এমন নৃশংসতার বিচার কি দ্রুত হবে?
দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মানুষসহ সমস্ত প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।