সেফ এক্সিট বিতর্কে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন: শিগগিরই তালিকা প্রকাশ করবে এনসিপি

রাজনীতি ডেস্ক | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান চান—এমন মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছেন। তার বক্তব্য ঘিরে এখন উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন। এনসিপি বলছে, শিগগিরই সেই উপদেষ্টাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে, যারা গোপনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত ৪ অক্টোবর এক বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছে, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।’ এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে; মুহূর্তেই ভাইরাল হয় নাহিদের মন্তব্য ও ছবি সংবলিত ফটোকার্ড।

বিতর্কের মুখে এনসিপির নেতারা বলছেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য কোনো গুজব নয়, বরং এটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছেন। এনসিপির এক নেতা বলেন, “এভাবে কিছু দলীয় আজ্ঞাবহ ব্যক্তিকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা ভুল ছিল। বরং অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা ছাত্র নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিলে আজ এই পরিস্থিতি হতো না।”

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলেন, “নাহিদ ইসলাম সরকারের ভেতরে থেকে উপদেষ্টাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাই তার বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক নয়। কারা সেফ এক্সিট চান, সেই তালিকা হয়তো তার কাছেই আছে।”

এদিকে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। এদের মধ্যে রিজওয়ানা হাসান নাহিদ ইসলামকে বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

নাহিদের বক্তব্যের সূত্র ধরে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “কিছু উপদেষ্টার মাঝে দায়সারা মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা যেন কোনোভাবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে সরে পড়তে পারলেই খুশি। এভাবে একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার টিকতে পারে না।”

এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সময়কার মিডিয়া নেটওয়ার্ক এখনো বহাল রয়েছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারে থাকা দুজন ছাত্র উপদেষ্টাকে টার্গেট করছে। তারা বলেন, “রাজপথে রক্ত দিয়ে তরুণ নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু সরকার এখন সেই পথ থেকে সরে গিয়ে পুরোনো রাজনীতির দাসে পরিণত হচ্ছে।”

দলটি জানায়, সেফ এক্সিট চান এমন উপদেষ্টাদের নামের তালিকা তারা খুব শিগগিরই জাতির সামনে প্রকাশ করবে।

সূত্র: এনসিপি নেতৃবৃন্দ, যুগান্তর, গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার ও নিজস্ব প্রতিবেদক।

  • #দেশএডিশন
  • error: Content is protected !!