সম্প্রতি রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর এবার আলোচনায় এসেছে আরেকটি গুরুতর হুমকির বিষয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসীদের তৈরি করা একটি তালিকায় রাজনীতিবিদ, জুলাই যোদ্ধা ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টসহ মোট ৭০ জনের নাম রয়েছে। ওই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ হাসনাত আব্দুল্লাহর ছবি সংযুক্ত করে হত্যার হুমকিসংবলিত একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ‘ব্যাটালিয়ান সেভেন্টি ওয়ান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্ট শেয়ার করে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল অজয় রায়না লেখেন, “হাদির পর পরবর্তী টার্গেট হাসনাত আব্দুল্লাহ।” বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ওই পোস্টটি শেয়ার করে রওশন হক নামের এক বাংলাদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, যিনি এই হুমকি দিয়েছেন তিনি একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, একাধিক বইয়ের লেখক এবং চলচ্চিত্র পরামর্শক। তিনি দাবি করেন, হাদির ওপর হামলার পেছনে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং একই ধারাবাহিকতায় হাসনাত আব্দুল্লাহকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এর আগের দিন সোমবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক বক্তব্যও দেন, যা পরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনাগুলো ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে এমন হুমকি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে হুমকির উৎস ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা জরুরি।