৪০-এর পরেও উদ্যমী থাকার উপায়: পুষ্টি–সচেতনতায় তারুণ্য ধরে রাখার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

দেশ এডিশন | স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

বয়স ৪০ পেরোলেই শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। হরমোনের পরিবর্তন, শক্তি–হ্রাস, জয়েন্টে ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া বা হজমে সমস্যা—এসবই অনেকের পরিচিত অভিজ্ঞতা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু নিয়ম মানলে বয়স বাড়লেও প্রাণশক্তি ও সতেজতা ধরে রাখা পুরোপুরি সম্ভব।

তাদের মতে, পুষ্টিকর খাবার শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়—শরীরের কোষ পুনর্গঠন, মানসিক ভারসাম্য এবং বয়সের সঙ্গে আসা পরিবর্তন সামলাতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হাড় ও জয়েন্ট শক্তিশালী রাখতে যা প্রয়োজন

৪০–এর পর শরীরে ক্যালসিয়াম ও কোলাজেন কমে যাওয়ায় জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে—
যে খাবারগুলো নিয়মিত রাখা উচিত:

● দেশি মাছ—ইলিশ, রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও সামুদ্রিক মাছ (ওমেগা–৩ ও উচ্চমানের প্রোটিন সমৃদ্ধ)

● দুধ, টকদই, পনির ও ছানা (ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন–ডি)

● রান্নায় নিয়মিত আদা ও হলুদ ব্যবহার

● তিল, বাদাম, চিনাবাদাম, চিয়া সিড, তিসি

● পালংশাক, লালশাক, কলমি, পুঁইশাকসহ সবুজ শাকসবজি

● ডিম

● সরিষার তেল বা মাছের তেল

 মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে সহায়ক খাবার

বয়স বাড়লে মনোযোগ ধরে রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা–৩ সমৃদ্ধ খাবার অত্যন্ত কার্যকর।
যা খাবেন:

● পালংশাক, লালশাক, ব্রকলি, লাউপাতা

● পেয়ারা, আপেল, ডালিম, আঙুর, কমলা, কলা ইত্যাদি ফল

● আখরোট, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম

● লাল চাল, ওটস, লাল আটার রুটি

● গ্রিন টি ও চা (মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে)

● ডার্ক চকলেট (৭০% কোকো, অল্প পরিমাণে)

দীর্ঘস্থায়ী শক্তি পেতে যা খাবেন

দিনভর কর্মক্ষম থাকতে প্রয়োজন ধীরে শক্তি প্রদানকারী খাবার।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ:

● ওটস, চিড়া, লাল চালের ভাত, রুটি

● মুগ, মসুর, ছোলা, মাষকলাই—প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ

● ডিম, মাছ, মুরগি

● কলা, পেঁপে, আপেল, খেজুর

● করলা, গাজর, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু

● ডাবের পানি, লেবুপানি, হারবাল চা

 প্রতিদিনের খাবারের সঠিক অনুপাত (৪০–এর পর আদর্শ ডায়েট প্লেট)

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত একটি বেলার খাবারে এই সমন্বয় রাখার পরামর্শ দেন—

● এক ভাগ প্রোটিন: মাছ, ডিম বা ডাল

● দুই ভাগ সবজি: শাক, লাউ, গাজর, করলা

● এক ভাগ শস্য: লাল চাল বা আটার রুটি

● একটি ফল: পেয়ারা/কলা বা যেকোনো টক ফল

● এক গ্লাস পানি বা টক দই: হজমে সহায়ক

 শুধু খাবার নয়—সম্পূর্ণ জীবনধারাই গুরুত্বপূর্ণ

পুষ্টিবিদরা আরও বলেন—

● নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

● অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম

● মানসিক চাপ কমানো

● পর্যাপ্ত পানি পান
—এসবই ৪০–এর পর সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার মূল চাবিকাঠি।

তাদের মতে, বাংলাদেশের দেশি খাবারই সবচেয়ে বড় সম্পদ—দেশি মাছ, ডাল, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল ঠিকভাবে খেলে চল্লিশের পরেও শরীর থাকবে সতেজ, উদ্যমী ও প্রাণবন্ত।

error: Content is protected !!