মানবদেহের গঠন নিয়ে নতুন এক গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গবেষকদের দাবি, উরুর পরিধি ৬০ সেন্টিমিটারের কম হলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং অকালমৃত্যুর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিষয়টি দেহের কাঠামো ও হৃদ্স্বাস্থ্যের মধ্যে এক নতুন ও অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক উন্মোচন করছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, উরুর পরিধি মানুষের দীর্ঘায়ুর একটি শক্তিশালী পূর্বাভাস নির্দেশক।
ওজন, উচ্চতা কিংবা BMI নয়—বরং উরুর মাপ থেকেই বোঝা যায়:
শরীরে পেশির পরিমাণ
ফ্যাটের ভারসাম্য
দেহের বিপাকীয় স্বাস্থ্য কতটা শক্তিশালী
উরুর পরিধি ছোট হলে পায়ে পেশিশক্তি কম থাকে। এতে দেহে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যায়, বাড়ে ইনফ্লেমেশন। তৈরি হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, এবং ধমনির দেয়াল শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা—যা সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষকদের মতে, পায়ের শক্তিশালী পেশি—
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে
রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে
বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে
পায়ের পেশি দুর্বল হলে শরীরের ওজন ধরে রাখতে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদে হার্টের ওপর চাপ বাড়ে।
গবেষণার মূল বার্তা শরীরের আকৃতি নয়, বরং শরীরের শক্তি—বিশেষ করে নিচের অংশের শক্তি।
পায়ের পেশিশক্তি বাড়াতে কার্যকর ব্যায়ামগুলো:
নিয়মিত হাঁটা
সাইক্লিং
স্কোয়াট
লেগ-স্ট্রেন্থ ট্রেনিং (লাংজ, লেগ প্রেস ইত্যাদি)
এ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রোটিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি-সমৃদ্ধ খাবার পায়ের পেশিকে আরও শক্তিশালী করে।
গবেষকরা বলছেন,
“শক্তিশালী পা শুধু আপনাকে এগিয়ে নেয় না—আপনার হৃদপিণ্ডকেও দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই কম উরুর পরিধির মানুষদের নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।