ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠানে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে দলে দলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তেহরান থেকে দেওয়া এক বিশেষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। সেনাপ্রধান দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, যেকোনো কঠিন परिस्थितीतও ইরানের জনগণអេឡិចត្រូនិច বা সামরিক কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
বিবৃতিতে আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং এর ফলশ্রুতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত বরণের ঘটনাকে কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোকের ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন।
মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, “শত্রুপক্ষ ভেবেছিল এই কুৎসিত হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের সাধারণ জনগণের মনোবল ও প্রতিরোধ স্পৃহাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। এই শোকের মুহূর্তে ইরানের মানুষ আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত ও দৃঢ় হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সারাজীবন সাহস, অসাধারণ দূরদর্শিতা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে লড়াই করার এক অনন্য বৈশ্বিক উদাহরণ ছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিরোধের পথ থেকে একচুলও সরে যাননি। তাই তাঁর জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে দেশের জনগণকে এই শহীদ নেতার রেখে যাওয়া আদর্শের প্রতি আবারো নিজেদের জাতীয় অঙ্গীকার প্রকাশ করার তাগিদ দেন তিনি।
ইরানি সেনাপ্রধান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিদায় অনুষ্ঠানে জনগণের ঐতিহাসিক ও ব্যাপক উপস্থিতি বৈশ্বিক শত্রুদের কাছে একটি পরিষ্কার এবং শক্তিশালী বার্তা দেবে। তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির যোগ্য পরিচালনায় ও নেতৃত্বে ইরানের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী পূর্বের ন্যায় একই আদর্শিক ও কৌশলগত পথে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাবে।
বিবৃতির শেষাংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে মেজর জেনারেল হাতামি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের ইতিহাস প্রতিরোধের ইতিহাস। এই দেশের বীর জনগণ কখনোই কোনো শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’ খামেনির প্রয়াণকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।