রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত বাদশা মিয়া নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই একই ঘটনায় গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছেন ওই একই সাংগঠনিক ইউনিটের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
আদাবর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্রাজিল বনাম জাপানের মধ্যকার ম্যাচটি দেখার সময় দুই পক্ষের দর্শকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার এক পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন ও বাদশা মিয়া। অন্যদিকে অপর পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন একই এলাকার বাসিন্দা রিপন ও পারভেজ নামের দুই যুবক।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মারামারির ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নবোদয় হাউজিং এলাকায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরও সালিশে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক সমাধান আসেনি।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে কোনো সমাধান না হওয়ায় সাদ্দাম হোসেন ও বাদশা মিয়া সালিশ স্থল থেকে নিজেদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা নবোদয় হাউজিংয়ের মূল রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব ওত পেতে থাকা রিপন ও পারভেজের নেতৃত্বাধীন একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দুই নেতাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সাদ্দাম হোসেনকে ভর্তি করা হলেও বাদশা মিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রিপন ও পারভেজসহ হামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।