দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গ্রামীণ জনপদের লজিস্টিকস চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বহুমাত্রিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষের জন্য বিশেষ মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক এই লজিস্টিকস চেইনকে আরও গতিশীল ও প্রত্যন্তমুখী করতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যৌথ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমসাময়িক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৫ লাখ টাকাসহ মোট ৮৫ লাখ টাকা এবং ৭০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে ৭০ লাখ টাকার সমপরিমাণ শুকনো খাবার এবং ৬১০ মেট্রিক টন চাল সুনির্দিষ্ট উপকারভোগীদের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিতরণ সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সবচেয়ে বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া, কাঞ্চনাবাদ, বাহারছড়া, সরল, সনুয়া ও শেখেরখীল ইউনিয়ন সমূহে। সাম্প্রতিক আবহাওয়ার কারণে গ্রামীণ কাঁচা ঘরবাড়ি ও স্থানীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কাথরিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ২৫০টি পরিবারকে ইতিমধ্যে ১০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হয়েছে এবং উপকারভোগীদের মূল তালিকা চূড়ান্ত ও পরিমার্জিত হলে আরও ৪০০ পরিবারকে এই লজিস্টিকস সুবিধার আওতায় আনা হবে।
সরকারি লজিস্টিকস চেইনের পাশাপাশি সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। ২০ সদস্যের একটি বিশেষ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দল নিয়ে মাঠপর্যায়ে কর্মরত মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, স্থানীয় সুধীজনদের অনুদানের ভিত্তিতে তাঁরা খানখানাবাদ, গণ্ডামারা ও পুঁইছড়ি এলাকার দুর্গম জনপদগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সফলভাবে বিতরণ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আনসার ও গিয়াস উদ্দিন আযাদ বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের এই দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়ার ইতিবাচক দিকসমূহ তুলে ধরেন।
অপরদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী এবং স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক রহিম সৈকত গ্রামীণ জনপদে ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে শতভাগ সুষম বণ্টন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী সমন্বিত লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তাদের প্রস্তুতি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন