ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চর গোপালপুর মৌজায় মুজিব কেল্লার বিপরীত পাশে অবৈধভাবে নির্মিত আড়াআড়ি বাঁধ অপসারণে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জায়েদ হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব, চরভদ্রাসন থানার এসআই রতন কুমার মণ্ডল, মোবাইল কোর্ট পেশকার রাসেল মুন্সিসহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী মহলসহ কয়েকটি জেলে গোষ্ঠী মিলে নদীর প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে সাত থেকে আটটি স্থানে এসব বাঁধ নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছিল। এতে নদীর প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান চলাকালে প্রশাসন আড়াআড়ি বাঁধ ছাড়াও নদীতে স্থাপিত একটি বড় মাছের ঘের ও ১০টি চায়না দোয়ারী ধ্বংস করে। পরে জব্দ করা জালগুলো নদীর তীরে এনে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জায়েদ হোসাইন বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষায় পদ্মা নদীতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব স্থানে অবৈধ বাঁধ ও মাছের ঘের রয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।”
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, “এই ধরনের অভিযান যদি নিয়মিত হতো, দেশি মাছ আরও বেশি ধরা যেত। এক জায়গায় অভিযান হলেও, অন্য জায়গায় আবার অনিয়ম শুরু হয়। ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময়েও এসব কার্যক্রম মৎস্য কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। কালো টাকার বিনিময়ে প্রায় এক মাস ধরে এই অবৈধ কাজ চলছে। সব আইন যেন শুধু গরিবের জন্যই।”
পদ্মা নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ অপসারণে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রশংসনীয় হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী অন্য এলাকাগুলোতে অনিয়ম অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—নদী রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলবে?
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন