দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল এবং সংলগ্ন পার্বত্য অববাহিকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিশেষ বায়ুচাপের কারণে সৃষ্ট অবহাওয়া পরিস্থিতি টেকসইভাবে মোকাবিলা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ তদারকিতে গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অববাহিকার পানি চলাচল সুগম করার লক্ষে মাঠপর্যায়ে জরুরি পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়া গতিশীল করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং মসৃণ পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে সামগ্রিক অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নদী পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল বাঁশখালী উপজেলার পানি চলাচল প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, গ্রামীণ জনপদের সুরক্ষায় উপজেলার ৮৬টি স্লুইসগেট ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান পরিকাঠামোগুলোর মধ্যে বেশ কিছু গেট দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় সেগুলোকে বর্তমান সময়ের উপযোগিতা এবং অতিরিক্ত পানি অপসারণ ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিকায়ন ও পুনর্নিমাণের জন্য উচ্চপর্যায়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে।
যেসব স্থানে পানির উচ্চতা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেখানে বিকল্প উপায়ে পানি চলাচলের পথ সুগম করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তদারকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার সুবাদে আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে আসবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) চট্টগ্রাম শাখার সহসভাপতি ইদ্রিস আলী দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি অবগঠামো সুরক্ষায় নিজস্ব কারিগরি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা রক্ষা, উপকূলীয় রেলপথ ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বড় স্থাপনা নির্মাণের সময় পানি চলাচলের স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক জলাধারসমূহকে দখলমুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয়। সঠিক ও পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাহাড়ি ঢলের অতিরিক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ রোধ করা সম্ভব।
একই সাথে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির উচ্চতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে শুরু করবে, যা উপকূলীয় অববাহিকার সার্বিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে। অপরদিকে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা পরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন