দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দূরদর্শী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি দেশের গৌরবময় রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া এবং সমাজ গঠনে আরও বেশি করে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক (ফ্রি) ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন, ঠিক তেমনি একজন নারী হিসেবে তিনি নিজেও দেশের সকল মায়ের ও শিশুর অধিকার রক্ষায় আজীবন কাজ করার স্বপ্ন দেখেন।
ডা. মাহমুদা মিতু তাঁর বিশেষ বার্তায় নিজের সুদূরপ্রসারী স্বপ্নের কথা প্রকাশ করে বলেন, “সংসদে যখন শুনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করেছেন, উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন তখন আমিও স্বপ্ন দেখি। একদিন আমার দলের মানুষও গর্ব করে বলবে, ডা. মাহমুদা মিতু বাংলাদেশের সকল মায়ের জন্য নিরাপদ ও বিনামূল্যে প্রসবসেবার ব্যবস্থা করেছেন, আগামীর প্রতিটি শিশুর নিরাপদ জন্ম ও সুস্থ বেড়ে ওঠার ভিত্তি নিশ্চিত করেছেন।” তবে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ সরাসরি সরকারে না গিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব কি না, তা নিয়ে তাঁর মনে একটি যৌক্তিক প্রশ্নও রয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই ধরনের মৌলিক ও মানবিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত করতেই দেশের রাজনীতিতে নারীদের আরও ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ একজন নারীই আরেকজন নারীর মাতৃত্বের ভয়, কষ্ট, দৈনন্দিন সংগ্রাম ও অবর্তমান প্রয়োজনকে সবচেয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন। নারীরা যত বেশি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন, তত বেশি পরিবার, মা ও শিশুদের জীবনকে কেন্দ্র করে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
যেসব নারীরা সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, সফলতার কোনো পথই কখনো সহজ নয়। অনেকে কঠিন পথের যাত্রাকে অনায়াসে হাসির আড়ালে লুকিয়ে হাঁটে, আবার কেউ দীর্ঘ দুঃখের পংক্তিতে তা প্রকাশ করে। তবে কঠিন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজের স্বপ্নকে কখনো ছোট করে দেখা যাবে না। অন্য কোনো পক্ষ সুযোগ তৈরি করে দেবে, এমন অপেক্ষায় না থেকে নিজেকে এমন সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন কোনো অবস্থাতেই সমাজ বা রাষ্ট্র আপনাকে উপেক্ষা করতে না পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, “মনে রাখবেন, আজ আপনি সাহস করে যে দরজায় কড়া নাড়বেন, কাল সেই দরজাই আরও অসংখ্য নারীর জন্য খুলে যাবে। আমরা কেউ একা এগোই না, একজন নারীর সাফল্য আরেকজন নারীর সম্ভাবনাকে সাহস দেয়।” পরিশেষে তিনি মন্তব্য করেন, যে সমাজ বা রাষ্ট্রে নারীরা সমানাধিকার নিয়ে সম্মানের সাথে এগিয়ে যায়, কেবল সেই সমাজেই পরবর্তী প্রজন্মের শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ লাভ করে। তাঁর এই সাহসী ও প্রগতিশীল বার্তাটি ইতিমধ্যে তরুণ সমাজ এবং রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।