বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্যাপক নীতিগত সংস্কার ও কাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নানামুখী পরিবর্তনের কারণে গত দুই বছরে তৈরি পোশাক ও পোশাকবহির্ভূত খাতের বেশ কিছু কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি এলেও, বর্তমান সরকারের নতুন অর্থনৈতিক নীতি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই খাতকে পুনরায় সম্পূর্ণ গতিশীল করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শিল্পপুলিশ ও পোশাক খাতের প্রধান সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম জোন মিলিয়ে বর্তমানে বিজিএমইএর সক্রিয় সদস্য কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১২৭টি। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক নীতি সহায়তা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সহজীকরণ এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক খাতের শত বিলিয়ন (১০০ বিলিয়ন) ডলারের বৈশ্বিক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সময়ের ব্যবধানে সম্পূর্ণরূপে সম্ভব।
পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, বিগত সময়ে বৈশ্বিক মহামারী পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছিল, যার ফলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির একটি চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক মহলে কিছু ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বাজারগুলোতে শুল্ক কাঠামোর নতুন সমীকরণের কারণে বিশ্ববাজারে চাহিদার গ্রাফ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় পর্যায়ে ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়ন এবং সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ (শিপমেন্ট) নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করছেন মালিকেরা।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম এবং শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ এই খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের গৌরবময় সুনাম ধরে রাখতে ক্রেতাদের আস্থার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এই লক্ষ্যে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কারখানাসমূহে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কাস্টমস ও বন্দর সংক্রান্ত প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি।
তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকা কারখানাগুলোকে পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সচল করার লক্ষ্যে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই বিশাল তহবিল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যের আধুনিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে ই-কমার্সভিত্তিক বিক্রয় এবং সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার অনলাইন প্রবণতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশীয় পণ্যের নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বিজিএমইএর প্রাক্তন পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের চাহিদা এখনো যথেষ্ট ইতিবাচক ও প্রবৃদ্ধিমুখী। ফলে সরকারি নীতি সহায়তা ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে সফলভাবে অগ্রসর হবে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন