পাবনা জেলায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিশেষ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিরাপদ জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে নীরব ঘাতক ব্যাধি এইচআইভি এইডস রোগের সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিশেষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের 'কী পপুলেশন্স-কেপি সেন্টারের' পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে এইচআইভি ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৫টি বিশেষ জনগোষ্ঠীর মোট ৩ হাজার ৮৮২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিশেষ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান:
হাসপাতালের কেপি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিভাজন নিম্নরূপ:
বিশেষ পুরুষ জনগোষ্ঠী: ১,৬১৫ জন
পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী/সেবাদানকারী: ৯০৮ জন
নারী স্বাস্থ্যকর্মী/সেবাদানকারী: ৭৬৫ জন
বিশেষ উপায়ে অবলিখনকারী: ৪৮৪ জন
তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া জনগোষ্ঠী: ১১০ জন
সম্প্রতি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও এইচআইভি: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উক্ত কর্মশালায় কেপি সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডা. মনিরুজ্জামান এবং সেন্টার ম্যানেজার ডা. আহসানুল কবির এই স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন ও তথ্যসমূহ উপস্থাপন করেন। চিকিৎসকদের মতে, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক এবং সচেতনতার অভাবে সমাজে এই নীরব সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কর্মশালায় উপস্থিত পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান এবং স্থানীয় গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার এবং গণমাধ্যমের কার্যকর প্রচারণার ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সাথে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনারও তাগিদ দেওয়া হয়।