জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কালজয়ী সাহিত্য ও বৈষম্যহীন আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশজুড়ে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সচিবালয় থেকে দেশের ৬৪টি জেলা ও নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে এই ঐতিহাসিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সাথে নজরুল বর্ষের বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগোও উন্মোচন করা হয়।
কেন্দ্রীয় এই উদ্বোধনের সাথে সঙ্গতি রেখে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দিকনির্দেশনায় পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পাবনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং প্রবীণ রাজনীতিক শামসুল রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (এসপি) ছুফি উল্লাহ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জেলা ছাত্রদল, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপ, জেলা বাস মালিক গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
এর আগে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বিদ্রোহ, প্রেম, বিরহ ও তারুণ্যের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় নাম। অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা আজও তাঁর সৃষ্টি থেকে পাওয়া যায়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে কবি প্রথম ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে অফিশিয়ালি ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পাবনার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জনাব শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এই আয়োজনকে কেবল সরকারি প্রশাসনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ের নজরুল গবেষক, কবি, স্থানীয় শিল্পী ও নজরুলপ্রেমী সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবেই বছরব্যাপী এই নজরুল বর্ষের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলে মিলে কবির আদর্শে একটি বৈষম্যহীন ও সাম্যের সামাজিক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।