বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অফিশিয়াল 'কミュニটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট' প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্ল্যাটফর্মের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে টিকটক কর্তৃপক্ষের নেওয়া নানামুখী প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের সামগ্রিক চিত্র এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কমিউনিটি গাইডলাইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে টিকটক এই তিন মাসে বাংলাদেশ অঞ্চল থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলেছে।
টিকটকের অভ্যন্তরীণ ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ ভিডিও সরানো হয়েছে, তা ওই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের ব্যবহারকারীদের দ্বারা প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ (০.৮%) শতাংশ। এই কনটেন্টগুলো মডারেট করার ক্ষেত্রে টিকটকের এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় মডারেশন সিস্টেম (Automated Moderation System) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ডিলিট করা ভিডিওগুলোর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভিডিওই সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার আগেই টিকটকের নিজস্ব প্রযুক্তি দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মুছে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দ্রুততম সময়ে কনটেন্ট ফিল্টারিং করার ক্ষেত্রেও টিকটক দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছে। মডারেশন সিস্টেমের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ভিডিওগুলোর মধ্যে ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভিডিওই আপলোড করার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্ল্যাটফর্ম থেকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকার সুরক্ষাতেও ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে টিকটক কর্তৃপক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সিস্টেমের ভুলত্রুটির কারণে কোনো ভিডিও যেন স্থায়ীভাবে বাদ পড়ে না যায়, সেজন্য ব্যবহারকারীদের জন্য আপিল বা পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর ভিডিও ডিলিটের বিরুদ্ধে আপিল করার পর টিকটকের হিউম্যান মডারেটর টিম সেই কনটেন্টগুলো পুনরায় গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করে। এই মানবিক পর্যালোচনার ফলস্বরূপ, ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এমন ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩টি ভিডিওর সত্যতা যাচাই শেষে সেগুলোকে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে পুনরায় টিকটক প্ল্যাটফর্মে এবং ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিশ্বস্ত ও নিরাপদ একটি ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে টিকটক নিয়মিত তাদের এই অ্যালগরিদম ও মডারেশন নীতি আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন