টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক নিচু এলাকার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে এবং কিছু এলাকায় রেল চলাচলেও সাময়িক প্রভাব পড়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৩২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। তবে চলমান বর্ষায় আবারও জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প গ্রহণের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে খাল সংকুচিত হওয়া, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে তারা মনে করছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি একটি বড় প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে দোষারোপের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিডিএর চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে অল্প সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত যে কোনো নগরের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ পুনরুদ্ধার, সমন্বিত নগর পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন