ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনায় ভাসছে পুরো দেশ। প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ বানাচ্ছেন শত হাত লম্বা পতাকা, কেউবা কিনছেন চড়া দামের জার্সি। তবে খেলাধুলার এই বাঁধভাঙা উৎসবের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিশেষ বার্তা এখন কোটি ফুটবল অনুরাগী তথা সমাজকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—”ফুটবলের বড় বড় পতাকা বানিয়ে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর আগে, একবার ঘরে ফিরে দেখুন—বৃদ্ধ বাবার গায়ের জামাটা ছেঁড়া কি না!”
শখের চেয়ে বাবার স্বাচ্ছন্দ্য বড়:
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো বিনোদন বা শখের চেয়ে পরিবারের দায়িত্ব এবং বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল নিয়ে মেতে থাকা কোনো অন্যায় নয়, তবে তা যেন নিজের পরিবারের মৌলিক চাহিদাকে আড়াল না করে। যে বাবা সারা জীবন নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে আগলে রেখেছেন, তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান নিশ্চিত করা প্রতিটি সন্তানের প্রধান দায়িত্ব। নিজের ঘরের বটবৃক্ষকে ভালো রাখলে যেকোনো উৎসবের আনন্দ এমনিতেই দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ফুটবল হোক দায়িত্বশীল আনন্দের মাধ্যম:
এই বার্তাটির নিচে এখন যুক্ত হচ্ছে হাজারো মানুষের সমর্থন। অনেকের মতেই, ভিনদেশী দলের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করার আগে আমাদের উচিত নিজের ঘরের প্রবীণ মানুষটির খোঁজ নেওয়া। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, তা বিশ্বকাপের ট্রফি জেতার চেয়েও অনেক বড়।
তাই এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে আনন্দ হোক দায়িত্বশীল। প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানোর আগে নিশ্চিত করুন, যেন আপনার বৃদ্ধ বাবার গায়েও একটি সুন্দর ও আরামদায়ক পোশাক থাকে।