রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে সাধারণ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মুরগি, সবজি, ডাল, তেল ও মাংসের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

গত দুই দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। রোজার আগে যেখানে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আগে যেখানে শসা কেজিতে ৫০ টাকা ছিল, সেখানে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১১০–১২০ টাকায়। বেগুন ৭০–৮০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০–১৩০ টাকায়। লেবুর দাম আরও চমকপ্রদ—৭–৮ টাকার লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২৫–৩০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৬০ টাকা।

রমজানের শুরুতেই গরুর মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০–৭৮০ টাকা। তবে খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই; এখনও কেজিপ্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মসুর ও এঙ্কর ডালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে মোটা দানার মসুর ডাল ৮০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এঙ্কর ডালের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০–১২০ টাকায়।

রমজানের শুরুতে আটা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। দুই কেজি আটা যা আগে ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৯৫ টাকা। তবে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে—কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পাইকারি বাজারে ছোলা ৮০–৮৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৯৫–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত ছোলা আমদানি হওয়ায় বাজারে এ পণ্যের কোনো সংকট নেই।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবুও বাজারে দাম বাড়তে থাকায় অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

রমজানের প্রথম দিনেই বাজারের এমন চিত্র সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর নজরদারি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

error: Content is protected !!