ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ গতিপথ। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোনোর মধ্যেই দলটি রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ খুঁজছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম পর্যায়ে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়—নতুন সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে আলোচনায় আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক আগ্রহ নতুন সরকারের জন্য একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিএনপি নেতৃত্ব ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে দেশের সার্বভৌম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ভিত্তিতে।
নির্বাচনের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ঘিরে কিছু তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও অফিস খোলা, দলীয় কার্যক্রম চালুর ঘোষণা এবং সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও ঘনীভূত করেছে। যদিও এসব ঘটনার সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার ও মামলা প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, অতীতের সহিংসতা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর বিচার নিশ্চিত না করে কোনো রাজনৈতিক দলকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী হবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে একদিকে নতুন সরকারের শুরুর পথচলা, অন্যদিকে নিষিদ্ধ দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান, বিচারিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—এই তিন ধারার সমন্বয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এক নতুন ও সংবেদনশীল অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।