দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাক-নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ‘ইন-হাউস কোচিং’-এর ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ বুধবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ইন-হাউস কোচিংয়ের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টি নির্ধারণ করার আহ্বান জানান। ফলাফলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "বিগত ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের ফলাফল পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি যে আমাদের ফলাফলের ধারাবাহিকতায় কিছুটা ড্রপ এসেছে। শিক্ষাক্ষেত্রের এই গ্রাফ আমাদের আবার ওপরের দিকে তুলতে হবে।" এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা এগিয়ে এনে ‘জানুয়ারি’ মাসেই গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় আলোচনা করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা অপতৎপরতা ঘটলে এর সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া ভাতার বিষয়ে সভায় একটি বড় সুখবর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী দাপ্তরিক জটিলতার কারণে অবসর ভাতা পাননি, তাদের বকেয়া অবসর ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
এ ছাড়াও দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামোগত ঘাটতি দূরীকরণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৬০ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদান কার্যক্রম গতিশীল করতে এই শূন্য পদগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপযুক্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে পূরণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশ্বস্ত করেন।