বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক অগ্রযাত্রা এবং আইন অঙ্গনের অন্যতম প্রবীণ সারথি, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও অষ্টম জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনাবসান ঘটেছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জীবনের শেষ পরিধি অতিক্রম করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের এই মহাপ্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিচার বিভাগে গভীর শ্রদ্ধার আবহ তৈরি হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পৃথক বার্তা প্রদান করেছেন।
মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি তাঁর নিজের, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকবৃন্দ এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন।
একই সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পৃথক বার্তায় তাঁর সংসদীয় প্রজ্ঞার কথা স্মরণ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করা জমির উদ্দিন সরকার সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান সংবিধান বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পূর্বে তিনি বিভিন্ন মেয়াদে গণপূর্ত, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিক্ষা এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বার্তায় জানান, বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থার বিকাশে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান রাষ্ট্র সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, দেশপ্রেমিক ও দলমত নির্বিশেষে সর্বমহলে সমাদৃত ব্যক্তিত্ব। বিগত বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা ফি ছাড়াই আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি যে আইনি লড়াই পরিচালনা করেছেন, তা মানবতাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা গুটিকয়েক আইনজীবীর অন্যতম। ২০০২ সালে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালেও তিনি তাঁর দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংসদীয় চর্চায় তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল রনি, সহ-সম্পাদক: আতাউর রহমান
যোগাযোগ: +𝟖𝟖 𝟎𝟗𝟔𝟗𝟕𝟓𝟎𝟏𝟎𝟏𝟎, বিজ্ঞাপন: +𝟖𝟖 𝟎𝟏𝟔𝟑𝟗 𝟑𝟏𝟑𝟏𝟑𝟏
১২২/৭, ব্লক–ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ।
স্বত্ব © ২০২৬ | দেশ এডিশন