২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর তীব্র সমালোচনা করে এটিকে জনবান্ধব করার তাগিদ দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। আজ বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করে আমির হামজা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই বাজেট শুনতে ভালো লাগলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে এর সামঞ্জস্য কম। তিনি দাবি করেন, সরকার বাজেট নিয়ে ইতিবাচক কথা বললেও, বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ দেখা গেছে।
বাজেট আলোচনায় তিনি অর্থপাচার রোধে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতি ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিগত সময়ের মতো এবারের বাজেটের অর্থ যেন অপব্যবহার বা পাচার হতে না পারে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া দেশের শিক্ষা খাতের বিদ্যমান বৈষম্যের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তিনি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেট আরও বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষকদের সুরক্ষায় এই সংসদ সদস্য স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ এবং শুল্কমুক্ত কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি কুষ্টিয়া অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালু'র কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূর করতে এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ভারী ও মাঝারি শিল্পায়নে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সবশেষে, আমির হামজা বাজেটকে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর নতুন করে করের বোঝা না বাড়িয়ে, বড় বড় কর ফাঁকি রোধে দেশের কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।