দেশের সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার অংশ হিসেবে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সকল চালককে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে গাড়ি চালানোর বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিদ্যমান ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে সর্বমোট ১২টি পয়েন্ট নির্ধারিত বা বরাদ্দ থাকে। এখন থেকে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকালীন কোনো চালক যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করেন কিংবা আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেন, তবে প্রচলিত অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত শাস্তি হিসেবে তার লাইসেন্স থেকে এই নির্দিষ্ট দোষসূচক পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে।
বিআরটিএ তাদের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে যে, এই পয়েন্ট কাটার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বর্তমানে ‘রোড সেফটি পেনাল্টি সিস্টেম’ (আরএসপিএস) নামক একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে কোনো চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফলে আইন অমান্যকারীদের অন ডিউটি ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে সহজেই চিহ্নিত করা এবং তাৎক্ষণিক শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।

বিআরটিএ আরও সতর্ক করেছে যে, লাইসেন্সের বরাদ্দকৃত পয়েন্ট ক্রমান্বয়ে কমতে থাকলে চালকদের লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিলের মতো গুরুতর আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই সড়কে নিজের ও যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দেশের সকল মোটরযান চালককে ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল এবং গতিসীমা সহ সামগ্রিক ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইন অমান্য করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।