চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) অতীতে গ্রাস করা অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে এর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে সিডিএ-র সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা আনা এবং ভবনের নকশা (প্ল্যান) পাসে সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
আজ শনিবার বিকেলে সিডিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "একটা ভবনের প্ল্যান বা নকশা অনুমোদন নিতে মানুষকে কেন দুই বছর ঘুরতে হবে? জনবান্ধব সিডিএ গড়তে কেউ অসহযোগিতা বা অনিয়ম করলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, নিয়মের বাইরে গিয়ে বা অনুমোদনহীনভাবে তৈরি হওয়া যেকোনো ভবন ভেঙে ফেলা হবে। আজকের এই সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলোর ভিত্তিতে সিডিএ-কে আধুনিকায়ন করতে দ্রুত একটি কার্যকর পথনকশা (Roadmap) তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সাঈদ আল নোমান, এনামুল হকসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের এমপিরা। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিডিএ যদি শুরু থেকেই কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করত, তবে চট্টগ্রামে কখনও অপরিকল্পিত নগরায়ণ হতো না এবং পরিবেশ ধ্বংস হতো না।
বিগত সময়ে সিডিএ-কে দুর্নীতি ঘিরে ফেলেছিল উল্লেখ করে সংসদ সদস্যরা চলমান মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা এবং নতুন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার তাগিদ দেন। একটি পরিকল্পিত, নান্দনিক ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সিডিএ-র আইন সংশোধন এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের জন্য জাতীয় সংসদে এবং প্রয়োজনে যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা। সভাশেষে চট্টগ্রামের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।