সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র যাদুকাটা নদী এবং এর তীরবর্তী সুবিখ্যাত শিমুল বাগান রক্ষায় সরকারের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বিশেষ আধাসরকারি পত্রে (ডিও লেটার) তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী তীর কাটার ঘটনা চলমান রয়েছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় বাজার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
সংসদ সদস্য তাঁর পত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যাদুকাটা নদী শুধু একটি সাধারণ নদী নয়; বরং এটি তাহিরপুরের পর্যটন শিল্প, পরিবেশগত ভারসাম্য ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই নদীর তীরে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিমুল বাগান এবং আশপাশের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তীরবর্তী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এমপি কামরুলের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে অতীতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়নি। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে বিশেষ করে রাতের আঁধারে নদীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী বহু ঐতিহ্যবাহী গ্রাম, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন পর্যটন এলাকা ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি হুমকিতে পড়বে।
এ রূপ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাদুকাটা নদীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি করা, বিশেষ নৌ-টহল ব্যবস্থা চালু করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদী সংগঠনের মতে, যাদুকাটা নদী ও শিমুল বাগান হলো তাহিরপুর তথা পুরো সুনামগঞ্জ জেলার পরিচয়ের প্রধান অংশ। তাই বৃহত্তর পরিবেশ, পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।